১.৩. সংক্ষেপে বাইবেলের গল্প
ইহুদীদের জাতীয় ইতিহাস জানা ছাড়া বাইবেলের রচনা ও গঠন বুঝা সম্ভব না। এখানে ট্রাডিশনাল ন্যারেটিভ আর সেকুলার ন্যারেটিভকে একত্রিত করে বর্ণনা করা হয়েছে। আদম থেকে পরের ইজ্রায়েলীয় শাসনকাল— যা সেকুলার ইতিহাসে অনুপস্থিত — বাইবেলের বর্ণনা থেকে নেওয়া। স্বাভাবিকতই আদম থেকে শুরু হয়ে যত সময় এগোবে বর্ণনা তত বেশি ডিটেইলড হবে। বাইবেলের ইতিহাস, ইহুদি-খ্রিস্টান থিওলজির ক্রমবিকাশ জানতে হবে এর ইতিহাস জানা আবশ্যিক।
তোরাত
১.
শুরুতে ইশ্বর ছয় দিনে আদম-ইভসহ পুরো মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন। প্রথমে আদমকে একা সৃষ্টি করা হয় এবং তার একাকিত্ব কাটানোর জন্য সঙ্গী হিসাবে ইভের সৃষ্টি। ইশ্বর তাদের এদন (Eden) বাগানে থাকতে দেন, যা [অমুক] আর [তমুক] এর মাঝে অবস্থিত। কিছু সময় পরে ইশ্বরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাপের প্ররোচনায় তারা নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করলে রাগান্বিত হয়ে ইশ্বর তাদের অভিশাপ দেন ও এদন থেকে বের করে দেন। ইশ্বরের ইচ্ছা আর আদেশ অনুযায়ী পৃথিবীতে আদম আর ইভ বংশবিস্তার শুরু করেন। উনার সন্তানদের উল্লেখ্য হল হাবিল-কাবিল, শেথ ইত্যাদি। এরপরের মেজর ঘটনা নোহের ঘটনা।
নোহের সময় আসতে আসতে কয়েক প্রজন্মেই মানুষ এত বেশি পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে যে ইশ্বর তাদের সমূলে বন্যায় ডুবিয়ে মৃত্যু দেন। এখন এই বন্যাকে গ্লোবাল-লোকাল ফ্লাড দুভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কিন্তু সেটা আলোচনার বিষয় না এখানে। বন্যা থেকে বাচাঁর জন্য ইশ্বরের আদেশে নোহ কিস্তি তৈরি করে তার নিজ পরিবার আর জোড়াজোড়া জীবজন্তু নিয়ে তাতে আশ্রয় নেয়। বন্যার পানি শুকিয়ে আসলে নোহ আর তার পরিবারের মাধ্যমে নতুনভাবে পথচলা শুরু হয় মানবজাতির। এ পর্যায়ের উল্লেখ্য ঘটনা হল হামের তার পিতা নোহকে নগ্ন অবস্থায় দেখা এবং নোহ কর্তৃক হামের ছেলে কেনানকে অভিশাপ দেওয়া। পরবর্তী প্রধান ঘটনা হল আমাদের পিতা ইব্রাহীমের ইতিহাস।
ইব্রাহীমের পিতা তেরহ ছিলেন নোহের [এততম] বংশধর। তেরহ তার পরিবার নিয়ে নিজ বাসস্থান কলদীয় দেশের ঊর ত্যাগ করে কেনানের দিকে রওনা হোন কিন্তু তিনি হারন নগরে বাস করা শুরু করেন। তেরহের মৃত্যুর পরে ইশ্বর সদাপ্রভু ইব্রাহীমকে হারন ত্যাগ করে কেনানে যেতে আদেশ দেন এবং ওয়াদা দেন যে আব্রামের বিশাল বংশধর হবে এবং নির্দিষ্ট ভূমি তাকে দিবেন। ভাতিজা লোটকে নিয়ে ইব্রাহিম কেনানের দিকে রওয়ানা দেন, এসময় ইব্রাহিমের বয়স ছিল ৭৫। এসময় ইব্রাহীম কেনানের এক জায়গায় স্থির ছিলেন না, বিভিন্ন প্রয়োজনে অবস্থা পরিবর্তন করতে থাকেন।
আব্রাহাম ও তার স্ত্রী সারাহ উভয়ে বার্ধক্যে ছিলেন ও তাদের কোন সন্তান ছিলেন না। যার জন্য সারাহ স্বতস্ফুর্তভাবে নিজ মিশরীয় দাসী হাজেরাকে আব্রাহামকে প্রদান করেন। আব্রাহামের বয়স যখন ছিয়াশি, তখন হাজেরা ইশমায়েলকে জন্ম দেন। আব্রাহামের বয়স যখন নিরানব্বই তখন ইশ্বর সারাহর গর্ভে আইজাকের জন্মের সুসংবাদ দেন। আইজাকের জন্ম সারাহর মনে হাজার আর ইশ্মায়েলের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাগ, ইর্ষা বিভিন্ন নেতিবাচক মনোভাবের জন্ম দেয়। এই অনুভূতি এতই প্রবল হয়ে উঠে যে সারাহর কথায় আব্রাহাম হেগার আর ইশ্মায়েলকে মরুভূমিতে রেখে আসেন। ইশ্বর সেখানে হেগার আর ইশ্মায়েলকে দেখা দেন। এরপরের অন্যতম ঘটনা ইসহাকের কুরবানি। ইশ্বর পরীক্ষার জন্য কুরবানির আদেশ দেন, আব্রাহাম নিজ ঈমানের পরীক্ষা দেন, ইশ্বর আইজাককে কুরবানি হওয়া থেকে রক্ষা করেন। ইশ্বর আইজাকের বংশধরদের জন্য নানা আশীর্বাদ দেন। এরপরের ঘটনার প্রধান চরিত্ররা হলেন আইজাক →জ্যাকব → যোসেফ। আমরা এই অংশটা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করব যেহেতু এগুলোর ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা নেই যদিও গল্পগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পাঠকেরা আদিপুস্তক পড়তে ভুলবেন না। এই বর্ণনাগুলো এমন কথায় ভরা যা নবী বা কোন সম্মানিত ব্যক্তির জন্য বেমানানযোগ্য। এগুলো মূলত আল্লাহ ওয়াজ যালের নাজিলকৃত বর্ণনা না। বরং ইস্রায়েলীয়দের নিজস্ব বানানো ঘটনা।
আইজাক রেবেকাকে বিয়ে করেন। দম্পত্তির দীর্ঘ সময় পরে জময সন্তান হোন। বড় সন্তান এষৌ, পিতার প্রিয়। ছোট সন্তান জ্যাকব, মায়ের প্রিয়। তৎকালীন সামাজিক নর্ম অনুযায়ী আইজাকের পরে বড় ছেলের এষৌর উত্তরাধিকার লাভ করার নিয়ম। কিন্তু রেবেকা আর জ্যাকব মিলে এষৌ ও আইজাককে ধোকা দিলে উত্তরাধিকার লাভ করে জ্যাকব। তাদের চক্রান্তের ফলে জ্যাকবকে ইসহাক এষৌ মনে করে আর্শীবাদ করলেন। প্রাপ্য আশীর্বাদ জ্যাকব চুরি করায় ভাইয়ের ওপর সে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয়। তাই জ্যাকবকে রেবেকা হারান অঞ্চলে প্রেরণ করে তার ভাই লাবানের কাছে।
হারানে পৌঁছে সে লাবানের কন্যা রাহেলক ভালোবেসে ফেলে এবং বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার আগে তাকে সাত বছর মামার জন্য কাজ করার শর্তে রাজি হতে হয়। অবশেষে সাত বছর পর বিয়ে হয়; কিন্তু অন্ধকারে স্ত্রীর সাথে রাত কাটানোর পর পরদিন সকালে সে হতবিহ্বল হয়ে যায়। কারণ মামা তাকে রাহেলের স্থলে আরেক মেয়ে লেয়ার সাথে বিয়ে দেন।
প্রায় সপ্তাহকাল পরে রাহেলের সাথেও তার বিয়ে হয় আরও সাত বছর কাজ করার শর্তে। অবশেষে লাবানের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তার দুই স্ত্রী, দুজন দাসী, এগারজন পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান সফরসঙ্গী হিসেবে যোগদান করে। .
জ্যাকবের পরিবার
জ্যাকবের দুজন স্ত্রী-
ক) লেয়া। তার গর্ভে এসেছে-১. রুবেন, ২. শিমিয়োন, ৩. লেবি, ৪. ইহুদা, ৫. ইযাখর, ৬. সবুলুন
খ) রাহেল। তার গর্ভে জন্মেছে-১. জোসেফ, ২. বেনজামিন
তার দুজন উপপত্নীও ছিল-
ক) বিলহা। তিনি রাহেলের দাসী। তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে-১. ড্যান, ২. নাফতালি
খ) সিলপা। তিনি লেয়ার দাসী। তার গর্ভে জন্মায়-১. গাদ, ২. আশের সুতরাং জ্যাকবের মোট পুত্র ১২ জন।
জ্যাকব তার সন্তানদের মধ্যে যোসেফকে বেশি ভালবাসতেন। এতে বাকি সন্তানেরা যোসেফকে হত্যার চক্রান্ত করে। কিন্তু ঘটনাক্রমে তারা হত্যার বদলে যোসেফকে বেচে দিলে মিশরে দাস হিসেবে পৌছায়। ভাইয়েরা জ্যাকবকে জানায় যে যোসেফ মারা গেছে। পরবর্তীতে বৃদ্ধ বয়সে এসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে জ্যাকব মিশরে পাড়ি জমান। ততদিনে তার পুত্র জোসেফ মিশরের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত হয়ে গেছেন। যোসেফ পরিবার-পরিজনদের মিশরের সমৃদ্ধ ভূমিতে চলে আসার আহ্বান জানান। যোসেফের পরিবারে ৭৫ জন ছিলেন। তারা সেখানে ২১৫ বছর বসবাস করেন। তারা বিপুল সমৃদ্ধি লাভ করে এবং সংখ্যার দিক থেকেও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে করে মিশরের লোকেরা তাদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে তাদেরকে দাসে পরিণত করে। লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার ৮০ বছর আগে ফিরাউনের নির্দেশে ইস্রায়েলীয়দের সকল ছেলেশিশুকে হত্যা করা হয়।
আল্লাহর কৃপায় শিশুকালে মুসা ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা পান; কিন্তু একজনকে হত্যা করার দায়ে মিশর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয় তাকে। মাদায়িনে গিয়ে তিনি বিয়ে করেন এবং সেখানেই মনোনীত হন ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে। তাকে জন্মভূমিতে ফিরে ইসরাইলিদের বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। হারুনকে মোশির সাহায্যকারী নির্ধারণ করেন ইশ্বর।
ইসরাইলিদের মুক্তি চেয়ে ফিরাউনের কাছে অনুরোধ করেও মুসা ও হারুন কোনো সফলতা পাননি। এরপর একের পর এক মহামারী লন্ডভন্ড করে দেয় গোটা মিশরকে। মিশর থেকে চলে আসার পূর্বে ইশ্বরের কথা মতো বনি ইসরাইল মিশরীয়দের কাছ থেকে সোনা, রূপা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ধার করে। ঈশ্বর তাদের মন নরম করে দেওয়ায় ইসরাইলিদের কথামতো তারা সবকিছু দিয়ে দেয়।
মিশর ছেড়ে হিজরতের এক বছর পর মুসা এবং হারুন মিলে ৬,০৩,৫৫০ জন ইহুদির একটি তালিকা তৈরি করেন। তারা সবাই ছিলেন কমপক্ষে বিশ বছর বয়সি এবং যুদ্ধের উপযোগী। লেবি গোত্র এবং সকল নারীকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়। বৃদ্ধ এবং বিশ বছরের কম কাউকে গণনা করা হয়নি। তাদেরকেও হিসেবের অন্তর্ভুক্ত করে ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রায় বিশ লক্ষ ইহুদি জনসংখ্যার ধারণা পাওয়া যায়।
সংখ্যায় মাত্র সত্তরজন নিয়ে সদ্য মিশরে প্রবেশ করা একটি গোষ্ঠী কীভাবে ২১৫ বছরের মধ্যে এরকম হাজার হাজার গুণ বৃদ্ধি পেল তা তাওরাতের লেখকের কাল্পনিক সৃষ্টি।
সিনাই পর্বতে গিয়ে মুসা ৪০ দিন পর্যন্ত প্রার্থনামগ্ন ছিলেন, 'সিনাই পাহাড়ে মোশির সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে প্রভু পরমেশ্বর মোশিকে দশ অনুশাসন খোদিত দুটি প্রস্তর ফলক দিলেন। ঈশ্বর স্বয়ং প্রস্তর ফলক দুটিতে দশ অনুশাসন খোদিত করে দিয়েছিলেন। পাহাড় থেকে মোশির নেমে আসতে দেরি হচ্ছে দেখে ইসরায়েলিরা জোট বেঁধে হারোণের কাছে গিয়ে একজন দেবতা তৈরি করে বলেন। হারোণ ইসরায়েলিদের সোনার মাকড়িগুলো দিয়ে একটি সোনার গোবৎস তৈরি করলে এর ইস্রায়েলীয়রা উপাসনা শুরু করে। মোশী এসে এই অবস্থা দেখে রাগ করেন এবং ইশ্বর তাদের শাস্তি দেন।
দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ইস্রায়েলীয়রা মরুভুমিতে ঘুরতে থাকে। এই অংশে নানা ঘটনা ঘটে। ইস্রায়েলীয়রা ইশ্বর আর মোশির বিরুদ্ধচারন করে যার জন্য ইশ্বরের শাস্তির সম্মুখীন হয়।
যা হোক, কিছুকাল পরেই ইন্তেকাল করেন মুসা আলাইহিস সালাম। চার দশক আগে সাগর পাড়ি দিয়ে আসা প্রজন্মের বেশির ভাগই তখন আর নেই। মুসা আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকারী হিসেবে যোশুয়া (Joshua) তাদের নেতৃত্ব দিয়ে কেনানের দিকে অগ্রসর হয়। জর্ডান নদী পাড়ি দিয়ে তারা জিরিহো (Jericho) এবং অন্যান্য নগরীর ওপর বিজয় লাভ করেন।
ফিলিস্তিনিদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় ইসরায়েলিরা। তাই ইহুদি নেতারা ঐশ্বরিক বিধানসহ চুক্তি সিন্দুকটি শিলোহ মন্দির থেকে স্থানান্তরিত করে সৈন্যবহরের সাথে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু সিন্দুকটি শেষমেশ শত্রুপক্ষের হস্তগত হয় এবং শিলোহ মন্দিরও ধ্বংস হয়।
ইসরাইলিদের যাজকতান্ত্রিক সরকার ফিলিস্তিনিদের প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। তাই নবি শামুয়েল (Samuel) একটি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন। এভাবে এর প্রথম উত্তরাধিকারী হয় শৌল। তবে তার ব্যাপারে শামুয়েলকে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যায়।
শৌলের দরবারে অনাহূত হলেও নেতৃত্বগুণ সব সময়ই প্রতীয়মান ছিল ডেভিডের মাঝে। গিলবোয়ার যুদ্ধে শৌলের মৃত্যু হলে তিনি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন।
পিতা ডেভিড এবং পুত্র সলোমনের মাঝে বিরাট ব্যবধান ছিল। একজন সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হলেও পরেরজন অপব্যয়ী। বাইবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সলোমন বহু রাজকন্যাকে বিয়ে করেন।
ইয়াওয়ের উপাসনা করার জন্য জেরুসালেমে তিনি বিরাট উপাসনালয় নির্মাণ করেন। অসংখ্য অইহুদি স্ত্রীর জন্য তিনি পৌত্তলিক মন্দিরও নির্মাণ করেন। তাদের অনুরোধে সেই দেবতাদের সম্মানও জানান, তবে 'তিনি নিজে একজন ইয়াহওয়েহবাদী ছিলেন।
মৃত্যুর পর সলোমনের রাজ্য জুদাহ এবং ইসরায়েল নামক দুটি রাজ্যে বিভক্ত করা হয়।
ক. ইসরায়েলের শাসন
এখন আমি ইসরায়েল রাজ্যের কয়েকজন শাসকের নাম বলব। এতে করে তৎকালীন ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার চিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠবে।
১. সলোমনের পুত্র, প্রথম জেরোবোম (খ্রিষ্টপূর্ব ৯৩১-৯১০ অব্দ)
বিভাজনের পর তিনি ছিলেন ইসরায়েলের প্রথম শাসক। জনগণ সলোমনের করারোপ নীতিতে অসন্তুষ্ট থাকায় সে আহিজাহ পাদ্রির প্ররোচনায় পিতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অতঃপর পিতাই তার নামে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করায় মিশরে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে সে। সলোমনের মৃত্যুর পর তার আরেক পুত্র রেহোবোম সিংহাসন অধিকার করে। এদিকে উত্তরের গোত্রগুলো তখন আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠা করে আরেকটি ইসরায়েলি রাজ্য। তখন সানন্দে নির্বাসন ছেড়ে রাজ্যের প্রথম রাজা হিসেবে আসন গ্রহণ করে জেরোবোম।
জাতির মূল চালিকাশক্তি যে ধর্ম, তা সে জানত। এদিকে প্রজারা কুরবানি দিতে সলোমনের মন্দির অর্থাৎ ইয়াহুদা রাজ্যের জেরুসালেমে যেতে পারে, এই ভয় তার মনে চেপে বসে। তাই মন্দির থেকে তাদের নজর অন্যদিকে দেওয়া জরুরি ছিল। তাই সে 'তার রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তের বেথেল এবং উত্তরের ড্যানের ধর্মীয় পুণ্যস্থানগুলো পুনরুদ্ধার করে। অ্যারোনের (হারুন) মতো সেও সেখানে স্থাপন করে সোনার তৈরি বাছুর।'
২. নাদাব থেকে যেহোরামের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৯১০-৮৪১ অব্দ)
জেরোবোমের পর অনেকেই শাসনের তখতে বসেছে এবং আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছে। জেরোবামের পথ অনুসরণ করেছে সেই যুগের আটজন রাজা। পাপাচারে লিপ্ত হয়ে ক্রমশ তারা মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে একত্ববাদ থেকে। তবে আহাবের (খ্রিস্টপূর্ব ৮৭৪-৮৫৩) কর্মকাণ্ড সবাইকে ছাপিয়ে গেছে। সে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে ইসরায়েলীয়দের মাঝে ফোনিশীয় দেবতা বা'ল-এর পূজার প্রচলন ঘটায়।(১) এই শাসনামলের শেষ রাজা জেহোরামকে তার পুরো পরিবার এবং বা'ল পূজার সকল প্রবক্তা সমেত হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে জেহোরামের নিজের সেনাপতি জেতু।[২]
৩. জেহু (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৪১-৮১৪ অব্দ)
এলিশা নবির শুরু করা আন্দোলনের জের ধরে জেতু নিজেকে ঈশ্বর কর্তৃক মনোনীত রাজা দাবি করে, যার কাজ হলো পাপাচারী আহাবের বংশ ধ্বংস করা। বা'ল পূজারী পূর্বের তিন রাজার পরিবারের সকলকে হত্যা করে সে। আহাবের সত্তরজন পুত্রের শিরশ্ছেদ করে দুটি স্তূপ সাজায়। পুরো রাজ্যকে সে একটি ধর্মীয় সংস্কারের মধ্যে নিয়ে আসে।
৪. জেহোয়াহাজ থেকে হোশিয়ার শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৮১৪-৭২৪ অব্দ)
জোয়াশের (খ্রিষ্টপূর্ব ৭৯৮-৭৮৩) কাছে ইয়াহুদার রাজা এমেজিয়াহের পরাজয়ের ফলে সামরিক শক্তি ভয়ানকভাবে হ্রাস পায়। সলোমনের মন্দির থেকে সোনা-রূপার পাত্রসামগ্রী এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে জোয়াশ। [৪] এছাড়া দ্রুত একের পর এক গুপ্তহত্যা এবং আসিরীয় শক্তির কাছে ইসরায়েলিয়দের বশ্যতা স্বীকার এ যুগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।(৩) চেপে বসা আসিরীয় শক্তির জোয়াল ভাঙতে উদ্যত হয় ইসরায়েলের শেষ রাজা হোশিয়া (খ্রিষ্টপূর্ব ৭৩২-৭২৪)। এর বিপরীতে আসিরীয়
রাজা শালম্যানেসার বিধ্বস্ত ইসরায়েলের অবশিষ্টাংশও লন্ডভন্ড করে দেয়। কারারুদ্ধ করা হয় হোশিয়াকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৭২১ সালে রাজধানী সামারিয়ার পতন এবং এর অধিবাসীদের বিতাড়নের মাধ্যমে উত্তরদিকের ইসরায়েল রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটে [১]
খ. ইয়াহুদার (জুডাহ রাজ্যের) শাসন
ইসরায়েলের মতো এখানেও মূর্তিপূজা এবং বিশৃঙ্খলা শিকড় গেড়ে বসে।
১. রাজা সলোমনের পুত্র রেহোবোয়াম থেকে আবিজাহের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৯৩১-৯১১ অব্দ)
রেহোবোয়াম ছিল সলোমনের উত্তরসূরি এবং ইয়াহুদা রাজ্যের প্রথম শাসক। আঠারজন স্ত্রী, ষাটজন উপপত্নী, আটাশজন পুত্র এবং যাটজন কন্যা তার। বাইবেল পণ্ডিতগণ তার শাসনামলকে ধর্মের জন্য কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।২১ ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে জানা যায়-
'তারাও পাহাড়ের চূড়ায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং পাহাড়োগ ও গাছের তলায় পাথরের স্তম্ভ ও আশেরা দেবীর প্রতীক মূর্তি গড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিল পূজার জন্য। তাদের সবচেয়ে জঘন্য কাজ ছিল এই যে, এই সমস্ত মন্দিরে দেবদাসেরা ব্যভিচারের কাজ চালাত। ইসরায়েলিরা দেশ অধিকার করার সময় প্রভু পরমেশ্বর এ দেশের অধিবাসী যে সমস্ত জাতিকে বিতাড়িত করেছিলেন, ইসরায়েলিরা তাদেরই ঘৃণ্য ক্রিয়াকলাপ, আচারপ্রথা অনুসরণ করতে লাগল।' [৪]
এরপর তার পুত্র আবিজাহ মাত্র তিন বছর শাসন করেছে। সেও ছিল পিতার পথের অনুসারী।[৩]
২. আসা থেকে জেহোশাপাতের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৯১১-৮৪৮ অব্দ)
আসার (খ্রিষ্টপূর্ব ৯১১-৮৭০) ঈশ্বরভীতির প্রশংসা করা হয়েছে বাইবেলে। 'তিনি পৌত্তলিক রীতিনীতি উপড়ে ফেলেন এবং জেরুসালেমের মন্দিরকে উপাসনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পুনপ্রতিষ্ঠা করেন। অবিশ্বাসীদের মৃত্যুর বিধান জারি করা হয় তার সময়। তার দাদি মাকাহ আশেরা দেবীর একটি অশ্লীল মূর্তি তৈরি করেছিল। সেটি ছিল ফোনিশীয় ধর্মীয় প্রথার একটি অংশ। আসা তা অপসারণের দ্বারা পবিত্র ভূমির মর্যাদা বৃদ্ধি করে। [১]
দামেশকের বেনহাদাদের কাছে তিনি মন্দিরের মহামূল্যবান কিছু সম্পদ প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল তাকে ইসরায়েল আক্রমণ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ইয়াহুদার ওপর থেকে চাপ কমানো। তার পুত্র জেহোশাফাতও (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৭০-৮৪৮) একই রকম সংস্কার কাজ চালিয়ে গেছে এবং পাহাড়ের উপাসনালয়গুলো ধ্বংস করেছে।[৩]
৩. জেহোরাম থেকে আহাজের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৪৮-৭১৬ অব্দ)
জেহোরাম থেকে আহাজ পর্যন্ত আটজন রাজা ছিলেন - [অমুক, অমুক]। এই আট রাজার শাসনামলে আবার মূর্তিপূজা এবং নৈতিক অবক্ষয় ফিরে আসে। জেহোরাম (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৪৮-৮৪০) পাহাড়ের ওপর উঁচু গৃহ নির্মাণ করে জেরুসালেমবাসীদের অবৈধ মেলামেশা করতে বাধ্য করে সেখানে। আর তার পুত্র আহাজিয়াহ ইয়াহুদাবাসীর কাছে বা'লকে দেবতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমাজিয়াহও (খ্রিষ্টপূর্ব ৭৯৬-৭৮১) সেরীয়দের মূর্তিগুলোকে নিজেদের দেবতা বানিয়ে পূজা শুরু করে। এরপর উজজিয়াহ নিজের শাসনামলে রাজ্যবিস্তারে খি মনোযোগ দিলেও আহাজের (খ্রিষ্টপূর্ব ৭৩৬-৭১৬) আমলে ক্রমশ অবনতির দিক যেতে থাকে তা। সে 'পৌত্তলিক রীতির অনুসরণ এবং পুনরায় শিশু বলিদানের আদিম প্রথা চালু করে। এমনকি ইয়াহওয়েহের অনুগ্রহলাভের জন্য নিজের সন্তানকেও বলিদান করে সে। এরপর আসিরিয়িদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য সলোমনের মন্দিরে ইয়াহওয়েহের উপাসনার বদলে আসিরীয় দেবতাদের পূজা করতে সে বাধ্য হয়।
৪. হেজেকিয়াহ (খ্রিষ্টপূর্ব ৭১৬-৬৮৭ অব্দ)
পিতার উত্তরসূরি হিসেবে ২৫ বছর বয়সে হেজেকিয়াহ সিংহাসনে বসেন। নিজেকে ইয়াহুদার একজন সফল শাসক হিসেবে প্রমাণ করেন তিনি। তিনি উপাসনালয় থেকে মুর্তি আর পৌত্তলিকতা দূর করেন।
৫. মানাসসেহ থেকে এমোনের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮৭-৬৪০ অব্দ)
মানাসসেহ (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮৭-৬৪২) তার পিতার করে যাওয়া সব সংস্কার কর্মের বিপরীত পন্থা অবলম্বন করে। হেজেকিয়াহ পৌত্তলিক মন্দিরগুলো ধ্বংস করলেও মানাসসেহ আবারও বা'ল এবং আসমানের দেবতাদের পূজার জন্য নতুনভাবে নির্মাণ করে সব। তার পুত্র এমোনও অনুসরণ করে এই মতাদর্শ।
৬. জোসিয়াহ (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৪০-৬০৯ অব্দ): তাওরাত পুনরুদ্ধার
পিতার উত্তরসূরি হয়ে আট বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তার রাজত্বের আঠারতম বছরের ঘটনা। রাজ লিপিকার শাপহামের কাছে প্রধান যাজক হিলকিয়া একটি বিধানগ্রন্থ নিয়ে আসেন। মন্দিরের উন্নয়ন কাজের মাটি খোঁড়ার সময় পাওয়া যায় গ্রন্থটি। জোসিয়াহর কাছে তা পড়ে শোনানো হলে তিনি সমাজের ধর্মীয় বিচ্যুতির কথা বুঝতে পেরে অস্থির হয়ে পড়েন। তাই মন্দিরে একটি জনসমাবেশ ডেকে উপস্থিত সকলকে কিতাব থেকে পাঠ করে শোনান তিনি। অতঃপর ধর্মীয় সংস্কারে হাত দেন।
'মন্দিরজুড়ে পৌত্তলিক বেদি এবং তাদের প্রার্থনাসামগ্রী দিয়ে ঠাসা ছিল। সেগুলোর অধিকাংশ আসিরীয়দের সূর্য, চাঁদ এবং নক্ষত্ররাজি পূজার সাথে সংশ্লিষ্ট ... শিশু বলিদান... বন্ধ করে দেওয়া হয় 'যাতে কেউ আর সেখানে গিয়ে নিজেদের শিশুপুত্র বা শিশুকন্যাকে মোলেক দেবের উদ্দেশে হোমবলি দিতে না পারে।' (২ রাজাবলি ২৩: ১০) প্রতিমাপূজারী পুরোহিতদের হত্যা এবং পুরুষ দেহকর্মীদের পৌত্তলিক আশ্রমগুলো ভেঙে ফেলা হয়। জেরুসালেমের বাইরে স্থানীয় উপাসনালয়গুলো ধ্বংস করে এর ওপর মানব হাড় পোড়ানো হয় অসম্মান করার উদ্দেশ্যে। [২]
৭. জেহোয়াজ থেকে জেদেকিয়াহের শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব ৬০৯-৫৮৭ অব্দ)
প্রচণ্ড অস্থিতিশীল এই সময়ে ইয়াহুদা প্রথমে মিশরীয় এবং পরে ব্যাবিলনীয়দের পক্ষ থেকে খুবই চাপে থাকে। পুরো রাজপরিবারকে বন্দি করে নিয়ে যায় ব্যাবিলনের রাজা নেবুচাদনেজার। ইয়াহুদা পরিণত হয় হতদরিদ্রদের রাজ্যে।(৩) জেদেকিয়াহ ওরফে মাত্তানিয়াহ (খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯৮-৫৮৭) ছিল ইয়াহুদার শেষ শাসক। আসলে সে নেবুচাদনেজারের নিয়োগ দেওয়া পুতুল মাত্র। এভাবে নয় বছর ধরে জি-হুজুরি পালন করার পর মিশরীয় প্ররোচনায় সে বিদ্রোহ করে। জবাবে ধেয়ে আসে ব্যাবিলনীয় আক্রমণ (
ii. প্রথম মন্দির ধ্বংস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দ) এবং ব্যাবিলনীয় নির্বাসন (খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬-৫৩৮ অব্দ)
পুরো জেরুসালেম ঘেরাও করে রাখে ব্যাবিলনীয় সৈন্যবাহিনী। ৫৮৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আত্মসমর্পণ পর্বের পর তারা শহরের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয় এবং প্রথম মন্দিরটি ভেঙে ফেলে।
'দুই দফার নির্বাসনে নারী ও শিশুসহ প্রায় পঞ্চাশ হাজার ইয়াহুদা নাগরিককে নেবুচাদনেজার ব্যাবিলনে নিয়ে যায়। কয়েকটি উপনিবেশে রেখে তাদেরকে বাড়ি তৈরি, দেখা-সাক্ষাৎ ও ব্যাবসা করার অনুমতি প্রদান করা হয়। ব্যতিক্রম দেখা যায় অল্পকিছু রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে।'[১]
iii. জেরুসালেম পুনরুদ্ধার এবং দ্বিতীয় মন্দির প্রতিষ্ঠা (খ্রিষ্টপূর্ব ৫১৫ অব্দ)
নির্বাসনের এক প্রজন্ম পরে ব্যাবিলন পারসিকদের দখলে চলে যায়। নিজেদের বাসভূমে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় ইহুদিদের। অল্প কিছু লোক তখন জেরুসালেমে ফিরে যায় এবং ৫১৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সেখানে দ্বিতীয় মন্দির প্রতিষ্ঠা করে।
এই আমলেই (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪৯ অব্দ) এয্রা (উজাইর) নবি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে তাওরাত পাঠপর্ব চালু করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চেয়ে তিনি একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বেশি। তিনি ইহুদি ধর্মের আইনকানুন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুরো শতাব্দী জুড়ে তাদের চিন্তাধারায় প্রভাব রাখেন।
iv. হেলেনিস্টিক শাসন (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৩-১৬৮ অব্দ) এবং ম্যাকাবীয় দ্রোহ (খ্রিষ্টপূর্ব ১৬৮-১৩৫ অব্দ)
৩৩১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সম্রাট আলেকজান্ডার ফিলিস্তিন জয় করে। এর ফলে যা হয়, ইহুদিরাও ধীরে ধীরে হেলিনিস্টিক (গ্রিক) সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে থাকে।
'হেলিনিস্টিক সংস্কৃতি আত্তীকরণের এই যুগের দেখার মতো বিষয় হলো তৃতীয় ওনিয়াসের পদচ্যুতি। সে ছিল প্রধান পুরোহিতদের একজন, যাকে সেলেও সিডরা পদচ্যুত করে। এরপর সে মিশর গিয়ে লিয়নটোপোলিসে ইয়াহওয়েহের নামে একটি ভিন্ন মতাদর্শিক মন্দির স্থাপন করে। হেলিওপোলিস নামের এই মন্দিরটি শতবছর টিকে ছিল সেখানে।'[]
সিরিয়ার রাজা চতুর্থ এন্টিওকাস গ্রিক ধর্ম ও সংস্কৃতিকে তার অধিকৃত ভূখণ্ডের
ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। ইহুদিদের আনুগত্যের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে ১৬৮ ভিপপূর্বাব্দে সর্বত্র জিউস দেবতার উপসনা বেদি তৈরির নির্দেশ দেয় সে। এক্ষেত্রে খ্রিষ্টপূর্বােেমর মন্দিরগুলো ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সিরিয়ান সেনাদের ভয়ে তার এই আদেশ সবাই মেনে নেয়; কিন্তু এর মধ্যেও ইয়াহুদা ম্যাকাবি নামের একজন যোদ্ধা বিদ্রোহ করে বসে। ১৬৫-১৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ঘটে যাওয়া কয়েক দফা সংঘর্ষে এন্টিওকাসের সেনাপতিদের সে হারিয়ে দেয়। মন্দিরকে সে সিরিয়ান প্রভাব থেকে স্বাধীন করে একটি সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। নিজে ১৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে নিহত হলেও ৬৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সেই সাম্রাজ্য টিকে ছিল।[১]
v) ম্যাকাবীয় সাম্রাজ্যের সমাপ্তি (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৩ অব্দ), রোমক শাসন এবং দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস (৭০ খ্রিষ্টাব্দ)
রোমক বাহিনীর জেরুসালেম বিজয়ের মাধ্যমে ম্যাকাবীয় সাম্রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটে। এর এক শতাব্দী পরেই দ্বিতীয় মন্দিরটিও ভেঙে দেয় বিজয়ী শক্তি। 'দ্বিতীয় ধ্বংসাভিযানটিই শেষ।