১০.১. মাইনর পয়েন্ট
১০.১.১. ওল্ড টেস্টামেন্ট
জ্ঞগ
১২.১. মাইনর পয়েন্ট
এখানে আলোচিত কাজগুলো
- ব্যক্তিরা নিজে থেকে করেছেন, ইশ্বর আদেশ দেননি।
- কাজগুলোকে আজকের খ্রিস্টানরা নৈতিকভাবে সমর্থন করেন না।
নোহ
জাহাজ থেকে নামার পরে একদিন নোহ মাতাল অবস্থায় নগ্ন হয়ে যায়। এসময় তার ছেলে হাম তাকে সেই অবস্থায় দেখে ফেলে আর উপহাস করে। জ্ঞান ফিরে ফেলে নোহ হামের কাজ জানতে পেরে হামের ছেলে কেনানকে অভিশাপ দেন। অথচ, কেনানের কোন দোষ ছিল না পুরো ঘটনায়। নোহ অভিশাপ দেন যে কেনান ও তার বংশধর তার ভাইদের দাসত্ব করবে চিরকাল। ইশ্বর এই অভিশাপ কার্যকর করেন। আদিপুস্তক ৯:১৮-২৫ ও ১০:১,
.
আব্রাহাম
যুদ্ধ শেষে গনিমতের মাল লুট করেছেন।
অবরাহাম নিজের সৎবোন, পিতৃকন্যা বা বৈমাত্রেয় বোন 'সারা'-কে বিবাহ করেন (আদিপুস্তক ২০:১২)।
সারা বন্দি হলে মিথ্যা বলেছেন অত্যাচারী শাসকের সামনে। কাপুরুষোচিত আচরন আর মিথ্যাচারিতা।
আদিপুস্তকের ২২ অধ্যায়ে আব্রাহাম ইশ্বরের আদেশে তার পুত্র ইসহাককে কুরবানী দিতে নিয়ে যান। হয়তো খ্রিস্টানরা বলতে পারে যে ইশ্বর তো কুরবানি হতে দেননি। কুরবানীতে বাধা দিয়েছেন।
ক। আব্রাহাম ইসহাককে মিথ্যা বলে নিয়ে গেছেন। (আদি ২২:৭-৮) আব্রাহাম মিথ্যা বলেছেন যে কুরবানির জন্য ইশ্বর পশু দান করবেন। অথচ তিনি জানতেন না যে ইশ্বর আসলে কুরবানির জন্য পশু দিবেন।
ইশ্বরের আদেশে আব্রাহাম তার পুত্র ইসহাককে কুরবানী দিতে উদ্যত হোন। আব্রাহাম ইসহাককে মিথ্যা বলে নিয়ে গেছেন। (আদি ২২:৭-৮) আব্রাহাম মিথ্যা বলেছেন যে কুরবানির জন্য ইশ্বর পশু দান করবেন। অথচ তিনি জানতেন না যে ইশ্বর আসলে কুরবানির জন্য পশু দিবেন। ইশ্বরের হস্তক্ষেপ বাদেও ইসহাক অলরেডি নিষ্ঠুরতার স্বীকার। ইসহাককে বাধা হয়েছে, বেধে বেদিতে ফেলে রাখা হয়েছে। আর যেকোন সময় তাকে হত্যা করা হবে। (আদি ২২:৯-১০)
খ। (আদি ২২:৯-১০) ইশ্বরের হস্তক্ষেপ বাদেও ইসহাক অলরেডি নিষ্ঠুরতার স্বীকার। ইসহাককে বাধা হয়েছে, বেদি বেধে ফেলে রাখা হয়েছে। আর যেকোন সময় তাকে হত্যা করা হবে।
বাইবেলের বর্ণনায় অবরাহামও বারবার মিথ্যা বলেছেন। দু'বার তিনি নিজের স্ত্রীকে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁদের মধ্যকার স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক উল্লেখ না করে স্ত্রীকে বোন বলে উল্লেখ করেন। (আদিপুস্তক ১২:১১-২০: ২০:১-১৮)
লোট-এর তাঁর কন্যাদ্বয়ের ব্যভিচার।
লোট অজ্ঞান থাকাকালীন অবস্থায় তার কন্যারা তার সাথে যৌনমিলন করে। (পয়দায়েশ ১৯:৩০-৩৮)
ইসহাকের মিথ্যা কথন
ইসহাক তার স্ত্রীর বিষয়ে মিথ্যা বলেন যে তিনি তার বোন হন। (পয়দায়েশ ২৬:৬-৭. মো.-১৩)
যাকোবের দুই সহোদরাকে একত্রে বিবাহ
ইসহাক (আ.)-এর ছোট ছেলে যাকোব (ইস্রায়েল)। যাকোব সহোদরা দু' বোনকে বিবাহ করছেন। (আদিপুস্তক ২৯:১৫-৩০) তিনি তৃতীয় বিবাহে বাধ্য ছিলেন না। তাঁর দায়িত্ব ছিল এক স্ত্রী এবং এক দাসী-স্ত্রী দুজনকে নিয়েই পরিতৃপ্ত থাকা।
অমানবিক ক্রয়বিক্রয়
ইয়াকুবের মধ্যে ভালবাসা ও সৌজন্যবোধের অভাব
বাইবেল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অতি সাধারণ একটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে ধার্মিকতা, ভালবাসা ও সৌজন্যবোধ বিদ্যমান থাকে ঈশ্বরের পুত্র এবং প্রথমপুত্র ইসরাইল (যাকোব), তাঁর মাতা এবং তাঁর পরিবারে তার ছিটেফোঁটাও ছিল না। এ প্রসঙ্গে বড় ভাই ইস ও ছোটভাই ইয়াকুবের গল্পটা উল্লেখ করা যায়:
"একদিন ইয়াকুব ডাল রান্না করেছেন, এমন সময় ইস্ ক্লান্ত হয়ে মরুপ্রান্তর থেকে এসে ইয়াকুবকে বললেন, আমি ক্লান্ত, আরজ করি, ঐ লাল, লাল দিয়ে আমার উদর পূর্ণ করো।... তখন ইয়াকুব বললেন, আজ তোমার জ্যেষ্ঠাধিকার আমার কাছ বিক্রি করো। ইস্ বললেন, দেখ, আমি মৃতপ্রায়, জ্যেষ্ঠধিকারে আমার কি লাভ? ইয়াকুব বললেন, তুমি আজ আমার কাছে কসম খাও। তাতে তিনি তাঁর কাছে কসম খেলেন। এভাবে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠধিকার ইয়াকুবের কাছে বিক্রি করলেন। আর ইয়াকুব ইস্কে রুটি ও মসুড়ের রান্না করা ডাল দিলেন এবং তিনি ভোজন পান করলেন, পরে উঠে চলে গেলেন। এভাবে ইস্ তাঁর জেষ্ঠাধিকার তুচ্ছ করলেন।" (আদিপুস্তক ২৫:২৯-৩৪)
যাকোবের মিথ্যা কথন ও প্রতারণা
বাইবেলের বিধান অনুসারে বড় ছেলে (firstborn) এষৌর (Esau) পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়া, বংশের অধিকার লাভ এবং আশীর্বাদ লাভের কথা। ইসহাকও বড় ছেলে এষৌকে আশীর্বাদের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যাকোব মিথ্যা বলে আর প্রতারণার মাধ্যমে আশীর্বাদ হরণ করেন। (আদিপুস্তক ২৭)
এ কাহিনীতে এ ভাববাদী পরিবারকে অশোভনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে:
(ক) স্ত্রী তার স্বামীর অন্ধত্বের সুযোগে তাঁকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করছেন।
(খ) মা তার এক পুত্রের পক্ষে অন্য পুত্রের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছেন।
(গ) যাকোব তাঁর সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ ষড়যন্ত্র করছেন!
(ঘ) ভাববাদী যাকোব বারবার মিথ্যা বলে ভাববাদী পিতাকে প্রতারণা করছেন।
(ঙ) তিনি ঈশ্বরের নামে মিথ্যা বলছেন যা ভয়ঙ্করতম কুফরী (blasphemy)। তিনি সহজ ও সাবলীলভাবে ঈশ্বরের নামে মিথ্যা বললেন যে, ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁকে দ্রুত শিকার ধরিয়ে দিয়েছেন। ঈশ্বরের নামে মিথ্যা বলতেও তাঁর হৃদয় কাপল না!
(চ) ঈশ্বর উপরের সবগুলো মহাপাপকে মহাপ্রেমে অনুমোদন করছেন।
(ছ) আমরা জানি যে, মানুষের হাতের চামড়া যতই লোমশ হোক তা কখনো ছাগলের দেহের লোমশ চামড়ার মত হয় না। এছাড়া মানুষের চামড়া এবং মানুষের দেহের উপর জড়িয়ে দেওয়া একটা অতিরিক্ত চামড়া কখনোই একরকম হয় না। অতিরিক্ত চামড়াটা থলথল করে এবং হাত দিলেই বুঝা যায়। অবাক কাণ্ড যে, ঈশ্বরের একজন প্রাজ্ঞ ভাববাদী তাঁর হাত দিয়ে ধরে ও নাড়াচাড়া করে মানুষের হাতের লোমশ চামড়া এবং মানুষের হাতের উপরে বেঁধে দেওয়া সদ্য জবাই করা একটা প্রাণির চামড়ার মধ্যে পার্থক্য করতে পারলেন না।
মূসা ও হারুন অজাচার-জাত সন্তান।
ফুফুর সংগে সহবাস তোরাহয় নিষিদ্ধ (লেবীয় ১৮:১২, লেবীয় ২০:১৯)। মোশি আর হারুন এরূপ অবৈধ বিবাহ বা অজাচার (INCEST)-জাত সন্তান। মোশির পিতা তাঁর আপন ফুফুকে বিবাহ করেন: "ইমরানের ছেলেরা হল হারুন ও মূসা। ইমরান তাঁর পিতার বোন ইউখাবেজকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর গর্ভে এঁদের জন্ম হয়েছিল।" (যাত্রাপুস্তক ৬:২০)
কোনো কোনো নবী মূর্তিপূজা করতেন। কোনো কোনো নবীকে অবিশ্বাসী বা অবাধ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মোশি: মূসা (আ) ও হারুন (আ)। বাইবেল দুজনকেই অবাধ্য ও অবিশ্বাসী বলে উল্লেখ করেছে। গণনা পুস্তক: শুমারী ২০:১২: "পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, তোমরা বনি-ইসরাইলদের সাক্ষাতে আমাকে পবিত্র বলে মান্য করলে না এবং আমার কথায় বিশ্বাস করলে না, এজন্য আমি তাদেরকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশে তোমরা এই লোকদের প্রবেশ করাতে পারবে না।" (মো.-১৩)
দ্বিতীয় বিবরণের ৩২:৪৮-৫২: "সেই দিনে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি এই অবারীম পর্বতে, অর্থাৎ জেরিকোর সম্মুখে অবস্থিত মোয়াব দেশস্থ নবো পর্বতে উঠ এবং আমি অধিকার হিসেবে বনি-ইসরাইলকে যে দেশ দিচ্ছি সেই কেনান দেশ দর্শন কর। আর তোমার ভাই হারুন যেমন হোর পর্বতে ইন্তেকাল করেছে এবং নিজের লোকদের কাছে সংগৃহীত হয়েছে, তেমনি তুমিও যে পর্বতে উঠবে, তোমাকে সেখানে ইন্তেকাল করে নিজের লোকদের কাছে সংগৃহীত হতে হবে; কেননা সীন মরুভূমিতে কাদেশস্থ মরীবা পানির কাছে তোমরা বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন করেছিলে ফলত বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমাকে পবিত্র বলে মান্য কর নি। তুমি তোমার সম্মুখে দেশ দেখবে, কিন্তু আমি বনি-ইসরাইলকে যে দেশ দিচ্ছি, সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।" (মো.-১৩)
এ দুটা স্থানে ঈশ্বর স্পষ্টতই বলেছেন যে, বনি-ইসরাইলদের মধ্যে মোশি ও হারোণ অবিশ্বাস করেছিলেন, অবাধ্যতা করেছিলেন, সত্য লঙ্ঘন করেছিলেন, বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিলেন এবং ঈশ্বরকে পবিত্র বলে মান্য করেননি। এজন্যই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের অধিকার ও সুযোগ থেকে তাঁদের উভয়কেই বঞ্চিত করা হয়।
মোশির ঈশ্বর-নিন্দা বা কুফরী কথা
মোশি মিসরে যেয়ে ফেরাউনের নিকট বনি-ইসরাইলের মুক্তি দাবি করলে ফেরাউনের লোকেরা তাদের উপর অত্যাচার করে। বাইবেলের বর্ণনায় এতে মোশি বলেন: "হে মাবুদ, তুমি এই লোকদের প্রতি কেন অমঙ্গল করলে? আমাকে কেন পাঠালে? যখন থেকে আমি তোমার নামে কথা বলতে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হয়েছি, তখন থেকে তিনি এই লোকদের অমঙ্গল করছেন, আর তুমি তোমার লোকদের (প্রজাদের) উদ্ধার করার জন্য কিছুই করনি।" (হিজরত: যাত্রা ৫:২২-২৩)
সম্মানিত পাঠক, এ সকল কথা কি স্পষ্ট কুফর বা ঈশ্বর নিন্দা নয়? কোনো বিশ্বাসী মানুষ কি এভাবে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করতে পারেন? সম্ভবত ঈশ্বর নিন্দামূলক অভিযোগ অস্পষ্ট করতে কিতাবুল মোকাদ্দস-২০০৬: 'তুমি আপন প্রজাদের উদ্ধারে কিছুই কর নাই' (neither hast thou delivered thy people at all) কথাটাকে একটু ঘুরিয়ে প্রশ্নবোধক করেছে: "কই তুমি তোমার বান্দাদের রক্ষা করলে?"
হারোণের গোবৎস পূজা
হারোণ একটা বাছুরের প্রতিমা তৈরি করেন এবং তার পূজার ব্যবস্থা করেন। এভাবে হারোণ বাছুরের প্রতিমা নির্মাণ করেন, সেটার পূজার নিমিত্ত তিনি কোরবানগাহ নির্মাণ করেন এবং এ উপলক্ষ্যে উৎসবেরও ঘোষণা দেন। এভাবে তিনি বাছুরের মূর্তি পূজা করেন এবং বনি-ইসরাইলদের তা পূজা করতে প্ররোচিত করেন। বাছুর পূজার কারণে কয়েক হাজার বনি-ইসরাইলকে হত্যা করা হয়। (যাত্রাপুস্তক ৩২:২৮) তবে হারোণকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।
মেজর: মোশি ও বনি-ইসরাইলদের মিথ্যাচার
বাইবেলের বর্ণনায় বনি-ইসরাইলদের মিসর থেকে বের করে নেওয়ার জন্য মোশি ফেরাউনকে মিথ্যা বলেন। ঈশ্বর নিজেই মিথ্যা বলতে নির্দেশ দেন: "তখন তুমি ও ইসরাইলের প্রাচীন লোকেরা মিসরের বাদশাহর কাছে যাবে, তাকে বলবে হিব্রুদের মাবুদ আল্লাহ আমাদেরকে দেখা দিয়েছেন; অতএব আরজ করি, আমাদেরকে অনুমতি দিন যাতে আমরা মরুভূমির মধ্যে তিন দিনের পথ গিয়ে আমাদের আল্লাহ মাবুদের উদ্দেশে পশু করবানী করতে পারি। কিন্তু আমি জানি, পরাক্রান্ত হাত দেখালেও মিসরের বাদশাহ তোমাদের যেতে দেবে না।... এর পর আমি হাত বাড়িয়ে দেবো এবং দেশের মধ্যে যে সমস্ত অলৌকিক কাজ করবো তা দিয়ে মিসরকে আঘাত করবো। এর পরে সে তোমাদেরকে যেতে দেবে।" (যাত্রাপুস্তক: হিজরত ৩:১৮-২০)
বিষয়টা বিস্ময়কর। ঈশ্বর নিজেই বলছেন যে, মিথ্যা বলে কোনোই লাভ হবে না। তাহলে মিথ্যা বলার প্রয়োজন কী?
অন্যত্র ইশ্বরের প্রেরণায় মোশি প্রত্যেক ইসরাইলীয় পুরুষ ও নারীকে নির্দেশ দেন, তার মিসরীয় প্রতিবেশী পুরুষ ও নারীর নিকট থেকে সোনা ও রুপার অলঙ্কার হাতিয়ে নিতে। ঈশ্বর বলেন: "তাহাতে তোমরা খালি হাতে যাইবে না; কিন্তু প্রত্যেক স্ত্রী আপন আপন প্রতিবাসিনীর কিম্বা গৃহে প্রবাসিনী স্ত্রীর কাছে রৌপ্যালঙ্কার, স্বর্ণালঙ্কার ও বস্ত্র চাহিবে; এবং তোমরা তাহা আপন আপন পুত্রদের ও কন্যাদের গাত্রে পরাইবে; এইরূপে তোমরা মিস্ত্রীয়দের দ্রব্য হরণ (লুণ্ঠন: spoil) করিবে।"
কি. মো.-২০০৬: "বনি-ইসরাইলদের প্রতি মিসরীয়দের মনে আমি এমন একটা দয়ার মনোভাব সষ্টি করব যাতে মিসর থেকে তোমাদের খালি হাতে যেতে না হয়। প্রতেক হিব্রু স্ত্রীলোক তার প্রতিবেশী এবং তার ঘরে আসে এমন সব মিসরীয় স্ত্রীলোকদের কাছ থেকে সোনা ও রূপার জিনিস আর কাপড় চোপড় চেয়ে নেবে..।" (যাত্রাপুস্তক: হিজরত ৩:২১-২২। পুনশ্চ: ১১:২-৩; ১২:৩৫)।
৬. ২. ৭. ৬. মোশির পরিকল্পিত নরহত্যা
মোশি দেখলেন, এক জন মিসরীয় তাঁর ভাইদের মধ্যে এক জন হিব্রুকে মারধোর করছে। তখন তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ঐ মিসরীয়কে খুন করে বালির মধ্যে পুতে রাখলেন। (হিজরত ২:১১-১২)
শামাউনের বেশ্যাগমন
স্যামসন অলৌকিক দৈহিক শক্তিসম্পন্ন ইসরাইলীয় বিচারকর্তা ছিলেন। তিনি ঈশ্বরের আত্মা বা পাক-রূহ দ্বারা পরিচালিত নবী ছিলেন (বিচারকর্তৃগণ ১৩:২৫) (বিচারকর্তৃগণ ১৪:৬, ৯: ১৫:১৪, ১৮, ১৯; হিব্রু ১১:৩২-৩৪)। ঈশ্বর জন্মের পূর্বেই তাঁকে নির্বাচিত করেন। (কাজীগণ ১৩ অধ্যায়)। শামাউন একদিন গাজা শহরে গিয়ে একটা বেশ্যাকে দেখলেন এবং তার কাছে গেলেন। (কাজীগণ ১৩:২৫ ও ১৬:১-৩, মো.-০৬)
মেজর: শমূয়েল ভাববাদীর মিথ্যাচারিতা
বাইবেলের অন্য একজন প্রসিদ্ধ নবী শমূয়েল বা শামুয়েল। তিনি ঈশ্বরের নির্দেশে ঈশ্বরেরই আরেক নবী ও মাসীহ তালুতকে মিথ্যা বলছেন: "পরে মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, তুমি কতকাল তালুতের জন্য শোক করবে? আমি তো তাকে অগ্রাহ্য করে ইসরাইলের রাজ্যচ্যুত করেছি। তুমি তোমার শিংগায় তেল ভরে নাও, যাও, আমি তোমাকে বেথেলহেমীয় ইয়াসির (বৈৎলেহমীয় যিশয়ের) কাছে প্রেরণ করি, কেননা তার পুত্রদের মধ্যে আমি আমার জন্য একজন বাদশাহকে দেখে রেখেছি। শামুয়েল বললেন, আমি কিভাবে যেতি পারি? তালুত যদি এই কথা শোনে, তবে আমাকে হত্যা করবে। মাবুদ বললেন, তুমি একটি বক্সা বাছুর সঙ্গে নিয়ে যাবে এবং বলবে, তুমি মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করতে এসেছ।" (১ শমূয়েল ১৬:১-২)
(খ) "ঐ কথা শুনে আল্লাহর রূহ তালুতের উপরে সবলে আসলেন এবং তাঁর ক্রোধ অতিশয় প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠলো। আর তিনি এক জোড়া বলদ নিয়ে খণ্ড খণ্ড করে ঐ দূতদের দ্বারা ইসরাইল দেশের সমস্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, যে কেউ তালুত ও শামুয়েলের পিছনে বাইরে না আসবে, তার সকল বলদের প্রতি এরকম করা যাবে; তাতে মাবুদের প্রতি লোকদের ভয় উপস্থিত হওয়াতে তারা এক জন মানুষের মত বের হয়ে আসলেন।" (১ শামুয়েল ১১:৬-৭)
শৌলের পাপাচার
পবিত্র আত্মা শৌলের উপরে আগমন করতেন এবং তিনি ভাববাণী বা নুবুওয়াত প্রচার করতেন। আবার পবিত্র আত্মা তাকে পরিত্যাগ করতেন তখন ঈশ্বরের দুষ্ট আত্মা তাঁর উপর আসতেন। লক্ষণীয় যে, পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলে তিনি উলঙ্গ হয়ে থাকতেন। তাঁর বিষয়ে বাইবেলের কয়েকটা বক্তব্য দেখুন:
(ক) তাঁরা সেখানে, সেই পর্বতে, উপস্থিত হলে, দেখ, এক দল নবী তাঁর সম্মুখে পড়লেন; এবং আল্লাহর রূহ্ সবলে তাঁর উপরে আসলেন এবং তাঁদের মধ্যে তিনি ভাবোক্তি (নুবুওয়াত: prophesied) বলতে লাগলেন।... শৌলও কি নবীদের মধ্যে এক জন?... পরে তিনি ভাবোক্তি (নুবুওয়াত) বলা শেষ করে উচ্চস্থলীতে গেলেন।” (১ শামুয়েল ১০:১০-১৩)
(গ) "আর আল্লাহর রূহ্ তাঁর উপরেও আসলেন, তাতে তিনি রামাস্থিত নায়োতে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত যেতে যেতে ভাবোক্তি (নুবুওয়াত) প্রচার করলেন আর তিনিও তাঁর কাপড় খুলে ফেললেন এবং তিনিও শামুয়েলের সম্মুখে ভাবোক্তি তবলিগ করলেন, আর সমস্ত দিনরাত উলঙ্গ হয়ে পড়ে রইলেন।" (১ শমূয়েল ১৯:২৩-২৪)
দাউদ।
প্রথম বিবাহ করেন তালুতের মেয়েকে। এ বিবাহে দাউদ পণ হিসেবে ২০০ জন খতনা না করা পুরুষের যৌনাঙ্গের চামড়া কেটে তাঁর শ্বশুর ঈশ্বরের নবী ও মাসীহ তালুতকে প্রদান করেন। (১ শমূয়েল ১৮:২৫-২৭)
দাউদের মিথ্যাচার
শৌলের ভয়ে নিঃসঙ্গ পরিত্যক্ত পলায়নরত দাউদ ইহুদিদের মহাযাজক: মহা-ইমাম অহীমেলকের নিকট গমন করেন। যাজক দাউদকে রাজ-জামাতা ও রাজার সেনাপতি হিসেবেই জানতেন। তালুত ও দাউদের মধ্যকার সমস্যা তিনি জানতেন না। যাজকের এ অজ্ঞতাকে পুঁজি করে দাউদ তাকে মিথ্যা বলে খাদ্য ও অস্ত্র আদায় করেন। যাজক দাউদকে খাদ্য ও অস্ত্র প্রদান করেছেন জানতে পেরে তালুত তথায় গণহত্যা চালান। (১ শামুয়েল ২১:১-৮)
এখানে দাউদ যা কিছু বলেছেন সবই মিথ্যা। এ মিথ্যার ফলশ্রুতিতে রাজা শৌল (তালুত) নোবে নির্বিচার গণহত্যা করেন। তিনি তথাকার সকল নারী, পুরুষ, শিশু এবং গরু, ছাগল, মেষ, গাধা ইত্যাদি সকল প্রাণি হত্যা করেন। এ ঘটনায় ৮৫ জন যাজক বা ইমাম নিহত হন। অহীমেলকের পুত্র অবিয়াথর রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে দাউদের নিকট গমন করেন। দাউদ তার কাছে স্বীকার করেন যে, তিনিই তার পরিবারের সকলের এ হত্যা ও ধ্বংসের কারণ। (১ শমূয়েল ২২:১-২৩)
৬. ২. ১১. ৩. দাউদের উলঙ্গতা
দাউদ তাঁর দাসদাসীদের সামনে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র হন। তাঁর স্ত্রী মীখল তার প্রতিবাদ করলে দাউদ ক্রুদ্ধ হয়ে আরো নিচে নামার সিদ্ধান্ত জানান ও বাহ্যত ঈশ্বরও দাউদেরই পক্ষে গেলেন, এ প্রতিবাদের কারণে স্ত্রী চিরতরে বন্ধ্যা হয়ে যান। (২ শামুয়েল ৬:২০-২৩)
৬. ২. ১১. ৪. দাউদের ব্যভিচার, ধর্ষণ ও হত্যা
'দাউদের অনেকগুলো স্ত্রী ও উপ-স্ত্রী ছিল। রাজত্ব লাভের আগেই দাউদের স্ত্রীদের সংখ্যা ছিল ৬ জন (২ শামুয়েল ৩:২-৫)। এরপর দাউদ আরো অনেক বিয়ে করেন: "দাউদ হেবরন ছেড়ে জেরুসালেমে গিয়ে আরও স্ত্রী ও উপস্ত্রী গ্রহণ করলেন" (২ শামুয়েল ৫:১৩)। এত স্ত্রী থাকার পরেও বহুশেবা (Bathsheba) নামক তাঁর এক প্রতিবেশিনীকে এক নজর দেখেই তাকে ধর্ষণ করার জন্য পাগল হয়ে গেলেন। এরপর নিজের পাপ গোপন করতে হত্যায় লিপ্ত হলেন। ২ শমূয়েল ১১:১-২৭)
(পাঠক ভাল করে উপরের বক্তব্য পাঠ করে দুজনের ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, বিশ্বাস ও সততা বিচার করুন। প্রথম ব্যক্তি অতি সাধারণ একজন বিশ্বাসী উরিয়। তিনি একজন বিবাহিত মানুষ, দীর্ঘকাল যুদ্ধের ময়দান থেকে একটা সুযোগে ফিরে এসেছেন। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর নিকট যাচ্ছেন না। স্বাভাবিক ও বৈধ জৈবিক চাহিদাকে তিনি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, দাউদের প্রতি ভক্তি ও সেনাপতির প্রতি ভালবাসার কারণে নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেনাপতি ও রাজার দাসদেরকে যুদ্ধের ময়দানে রেখে নিজে স্ত্রীর সাথে ফুর্তি করবেন না বলে শপথ করছেন। দাউদ তাকে যথাসাধ্য বেশি পরিমাণ মদ পান করিয়ে মত্ত করেছেন। মত্ত অবস্থাতেও তিনি তাঁর বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও শপথ ভুলে যান নি।
লক্ষণীয় যে, এত বড় মহাপাপ দাউদ নির্বিকার চিত্তেই করছেন। সামান্যতম বিকার বা বিবেকের দংশন নেই। বাইবেলের বর্ণনায় নাথন ভাববাদী এসে উদাহরণের মাধ্যমে দাউদকে তাঁর পাপের বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দাউদ বিষয়টিকে কোনোভাবেই পাপ বা অন্যায় বলে কল্পনাও করেননি। (২ শমূয়েল ১২:১-১৪) দাউদকের এর জন্য দেওয়া ইশ্বরের শাস্তি (২ শমূয়েল ১২:৯-১৪)
দাউদ বাইবেলের 'দশ-আজ্ঞা'-র তিনটা 'আজ্ঞা' একত্রে লঙ্ঘন করেছেন: (১) খুন কোরো না, (২) জেনা কোরো না, (৩) অন্যের ঘর-দুয়ার, স্ত্রী, গোলাম... কিছুর উপর লোভ কোরো না।" (হিজরত: যাত্রাপুস্তক ২০:১৩-১৭)। আর তিনি যে মহাপাপ করলেন তার জন্য ঈশ্বর নির্ধারিত একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (লেবীয় ২০:১০; দ্বিতীয় বিবরণ ২২:২২)। তবে ঈশ্বর তাঁর পুত্র ও খ্রিষ্ট দাউদের জন্য ভিন্ন রকমের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন: (১) দাউদের পাপের জন্য তার কুল বা বংশধরদের জন্য চিরস্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করলেন,(২) দাউদের পাপের জন্য তাঁর নবজাতক নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুদণ্ড দিলেন এবং (৩) দাউদের স্ত্রীদের প্রকাশ্যে গণধর্ষণের ব্যবস্থা করলেন।
৬. ২. ১১. ৫. অতিবৃদ্ধ হওয়ার পরে শ্রেষ্ঠসুন্দরী কুমারী মেয়েকে বিবাহ
বাইবেল বলছে: "বাদশাহ দাউদ বৃদ্ধ হয়েছিলেন ও তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল এবং লোকেরা তাঁর শরীরে অনেক কাপড় দিলেও তা উষ্ণ হত না। এজন্য তাঁর গোলামেরা তাঁকে বললো, আমাদের মালিক বাদশাহর জন্য একটা যুবতী কুমারীর খোঁজ করা হোক; সে বাদশাহর সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর সেবা-যত্ন করুক এবং আমাদের মালিক বাদশাহর শরীর যেন উষ্ণ হয়, এজন্য তাঁর বক্ষস্থলে শয়ন করুক। পরে লোকেরা ইসরাইলের সমস্ত অঞ্চলে সুন্দরী যুবতী মেয়ের খোঁজ করলো ও শুনেমীয়া অবীশগকে (Abishag the Shunammite) পেয়ে বাদশাহর কাছে নিয়ে গেল। সেই যুবতী খুব সুন্দরী ছিল, আর সে বাদশাহর সেবা-যত্ন ও তাঁর পরিচর্যা করতো, কিন্তু বাদশাহ তার পরিচয় নিলেন না।" (১ রাজাবলি:বাদশাহনামা ১:১-৪)
এখানে আমরা এ অতিবৃদ্ধ ভাববাদীর উষ্ণতার সাথে যৌবন, কৌমর্য ও সৌন্দর্যের সম্পৃক্ততা দেখছি। ঈশ্বরের পুত্র ও খ্রিষ্ট এ ভাববাদীর এ সময়ে অনেক স্ত্রী বিদ্যমান ছিলেন। যারা এতদিন তাঁকে উষ্ণ করেছেন। কিন্তু এখন তিনি উষ্ণতার জন্য রাজ্যের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত অনুসন্ধান করে যুবতী, কুমারী ও অতি সুন্দরী এ মেয়েটাকে নিয়ে এলেন, তারপরও তিনি তার পরিচয় নিয়ে উষ্ণ হতে সক্ষম হলেন না।
৬. ২. ১১. ৬. দাউদের কসম-ভঙ্গ
শৌল বা তালুত দাউদকে হত্যার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও দাউদ নিজে তালুতের প্রতি মমতা প্রদর্শন করতেন; কারণ তালুত ছিলেন ঈশ্বরের অভিষিক্ত, অর্থাৎ মাসীহ বা খ্রিষ্ট (anointed, Messiah, Christ)। তালুত দাউদের হাতে ধরা পড়লেও তিনি তাঁকে হত্যা না করে বলেন: "আমার প্রভুর বিরুদ্ধে হাত তুলব না, কেননা তিনি মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তি"। (১ শমূয়েল ২৪:১০)। তখন তালুত তাঁর সন্তানদের জন্য নিরাপত্তা চেয়ে বলেন: "এখন তুমি মাবুদের নামে আমার কাছে এই কসম খাও যে, তুমি আমার পরে আমার বংশধরদের ধ্বংস করবে না... দাউদ তালুতের কাছে সেই কসমই খেলেন।" (১ শমূয়েল ২৪:২১-২২, মো.-০৬)
এ কসম দাউদ অকাতরে ভেঙ্গে ফেলেন। দাউদ তালুতের পুত্র যোনাথনের কাছে অনুরূপ কসম করেছিলেন (১ শামুয়েল ২০:১৪-১৭)। দাউদ যোনাথনকে দেওয়া কসম রক্ষা করলেন। তবে তালুতের কাছে করা কসম অকাতরে ভঙ্গ করে তালুত বংশের অসহায় ৭ জনকে হত্যা করেন। তালুত গিবীয়োনীয়দের অনেক মানুষ হত্যা করেছিলেন। এর শাস্তি হিসেবে ঈশ্বর তালুতের বংশধরদেরকে গিবীয়োনীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা দেন। দাউদ তাদেরকে গিবীয়োনীদের হাতে তুলে দিলে তারা তাদেরকে হত্যা করে লাশগুলো ফেলে রাখে। (২ শমূয়েল ২১:১-৯)
অবশালোম তার পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বনি ইসরইলের বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম হন। (২ শমূয়েল ১৮:১-৭)
লক্ষণীয় যে, দাউদ এজন্য কষ্ট পেয়েছেন বলে বাইবেল উল্লেখ করে নি। অবাধ্য ও পাপী পুত্রের এতসব অপরাধের পরেও দাউদ তাকে হত্যা না করার জন্য তাঁর সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। এরপরও যুদ্ধে অবশালোম নিহত হন। হত্যার সংবাদ শুনে দাউদ অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে কাঁদাকাটি করতে থাকেন। (২ শমূয়েল ১৮:৮-৩৩)
পাঠক, লক্ষ্য করুন, দাউদ নিজের কলঙ্ক গোপনের জন্য নির্বিকার চিত্তে উরিয়কে হত্যা করালেন, কিন্তু নিজের স্ত্রীদেরকে ধর্ষণকারী ও ২০ হাজার ইসরাইলীয়ের হত্যাকারী পুত্র অবশালোমকে হত্যা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। পবিত্র হৃদয় নিষ্পাপ উরিয়ের হত্যার সংবাদে নির্বিকার অথবা আনন্দিত চিত্ত ঈশ্বরের পুত্র ও খ্রিষ্ট দাউদ মহা-অপরাধী পুত্রের হত্যার সংবাদে ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন।
দাউদ তাঁর ধর্ষক পুত্র অবশালোমের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও সে নিহত হয়। দাউদ তার জন্য মহাশোক করেন। তবে ধর্ষিতা স্ত্রীদের জন্য কোনো মমতা তো দেখালেন না; উপরন্তু তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন। (২ শামুয়েল:শমূয়েল ২০:৩, মো.-০৬)
শলোমনের মহাপাপ সমাচার
শলোমন দাউদ আর বৎশেবার (Bathsheba) সন্তান। দাউদের পূর্বের স্ত্রীগুলোর ঘরে আরো অনেক পুত্র ছিল। তবে ঈশ্বর দাউদের সিংহাসন রক্ষার জন্য বৎশেবার পুত্রকেই বেছে নিলেন। রহস্য আমরা জানি না।
বাইবেলের কয়েকটা পুস্তক শলোমনের রচিত বলে দাবি করেন ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা। ঈশ্বর তাঁর এ পুত্রের বিষয়ে বলেছেন: কেননা তার নাম সোলায়মান (শান্ত) হবে এবং তার সময়ে আমি ইসরাইলকে শান্তি ও নির্বিঘ্নতা দেব। সেই আমার নামের জন্য গৃহ নির্মাণ করবে; আর সে আমার পুত্র হবে, আমি তার পিতা হব এবং ইসরাইলে তার রাজ সিংহাসন চিরকালের জন্য স্থায়ী করবো।" (১ বংশাবলি:খান্দাননামা ২২:৬-১০। আরো দেখুন: ২ শমূয়েল ৭:১২-১৪)
ঈশ্বর তাঁর এ প্রিয় পুত্রকে সর্বোচ্চ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। ঈশ্বর শলোমনকে বলেন: "আমি তোমার অন্তরে এমন জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দিলাম যার জন্য দেখা যাবে যে, এর আগে তোমার মত আর কেউ ছিল না আর পরেও হবে না।" (১ বাদশাহনামা ৩:১২) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী এ ঈশ্বর-পুত্র (ইবনুল্লাহ) সম্পর্কে অনেক অশোভনীয় কথা বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান। কয়েকটা বিষয় দেখুন:
৬. ২. ১৩. ১. শলোমনের কয়েকটা হত্যাকাণ্ড
শলোমন যুদ্ধবিগ্রহে না জড়ালেও রাজত্বের শুরুতেই তাঁর নিজের বড় ভাই, তাঁর পিতার প্রধান সেনাপতি, প্রধান পুরোহিত ও অন্য কয়েকজন মানুষকে হত্যা করেন। তাঁর পিতা দাউদও তাঁকে এদের কয়েকজনকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে যান। দাউদের এ ওসিয়ত থেকে বাইবেলীয় ইবনুল্লাহ ও মসীহদের প্রতিশোধস্পৃহার বিষয়টা জানা যায়।
(ক) দাউদ বৃদ্ধ হলে তাঁর পুত্র- শলোমনের বড় ভাই- আদোনিয় রাজা হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দাউদ শলোমনকে রাজত্ব প্রদান করেন। তখন আদোনিয় ক্ষমা চান এবং সাজদা করে বাদশাহ শলোমনকে সম্মান করেন। শলোমন বলেন: "সে যদি নিজেকে ভাল লোক হিসাবে দেখাতে পারে তবে তার মাথার একটা চুলও মাটিতে পড়বে না; কিন্তু যদি তার মধ্যে খারাপ কিছু পাওয়া যায় তবে সে মরবে।" পরে আদোনিয়শলোমনের মাতা বৎসেবার মাধ্যমে শলোমনের কাছে আব্দার করেন, শূনেমীয়া অবীশগকে তার সঙ্গে বিয়ে দিতে। এতে শলোমন সাথে সাথেই আদোনিয়াকে হত্যা করেন। (১ বাদশাহনামা প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়। বিশেষত ১:৫২-৫৩ ও ২:১৩-২৫)
(খ) দাউদের প্রধান সেনাপতি যোয়াব দাউদ-রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেন। তালুতের সেনাপতি অবনেরকে দাউদ নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু অবনের যোয়াবের ভাইকে হত্যা করেছিলেন বলে যোয়াব তাকে কৌশলে হত্যা করেন। এছাড়া আরেক সেনাপতি অমাসাকেও যোয়াব হত্যা করেছিলেন। দাউদ এ হত্যার জন্য যোয়াবকে শাস্তি না দিয়ে বদদোআ করেন এবং শলোমনকে নির্দেশ দিয়ে যান যোয়াবকে হত্যা করতে। যোয়াব শলোমনের ভয়ে মাবুদের তাম্বুর মধ্যে আশ্রয়গ্রহণ করেন। শলোমন সেখাইে তাকে হত্যা করেন। (১ রাজাবলি: বাদশাহনামা ২য় ও ৩য় অধ্যায়)
দাউদ শলোমনকে বলেন: "সরয়ার ছেলে যোয়াব আমার প্রতি যা করেছে এবং ইসরাইলীয় সৈন্যদলের দুই সেনাপতির প্রতি, অর্থাৎ নেরের ছেলে অবনের ও যেথরের ছেলে অমাসার প্রতি যা করেছে তা তো তুমি জানই। সে তাদের খুন করেছে, শান্তির সময়েও যুদ্ধের সময়ের মত করে তাদের রক্তপাত করেছে... তুমি তার সংগে বুদ্ধি করে চলবে, তবে বুড়ো বয়সে তুমি তাকে শান্তিতে কবরে যেতে দেবে না।... মনে রেখো, বহুরীমের বিনইয়ামীন গোষ্ঠীর গেরার ছেলে শিমিয়ি তোমার সংগে আছে। আমি যেদিন মহনয়িমে যাই সেই দিন সে আমাকে ভীষণ বদদোয়া দিয়েছিল। জর্ডানে সে আমার সংগে দেখা করতে আসলে পর আমি মাবুদের নামে তার কাছে কসম খেয়েছিলাম যে, আমি তাকে হত্যা করব না। কিন্তু এখন তুমি তাকে নির্দোষ মনে কোরো না। তুমি বুদ্ধিমান; তার প্রতি তুমি কি করবে তা তুমি নিজেই বুঝতে পারবে। তার বুড়ো বয়সে রক্তপাতের মধ্য দিয়েই তাকে কবরে পাঠিয়ে দেবে।" (১ বাদশাহনামা ২:৫-৯, মো.-০৬)
যোয়াব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুদ্ধের ময়দানের বাইরে কৌশলে অবনের ও অমাসাকে হত্যা করেন। (২ শামুয়েল ৩:২২-৩০ ও ২০:৪-১৩) এজন্য দাউদ তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। দাউদ তো নিজেই কোনো যুদ্ধ ছাড়াই শান্তিতে বসবাসকারী নাবল ও তার পরিবারের সকল পুরুষকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায়। তাহলে যোয়াবের হত্যার নির্দেশ কি ঈশ্বরের বিধান পালনের জন্য? না যোয়াব দাউদের পুত্র অবশালোমকে যুদ্ধের মাঠে হত্যা করেছিলেন বলে প্রতিহিংসা বশত?
(গ) গেরার ছেলে শিমিয় তালুতের বংশের মানুষ। তালুতের প্রতি মমতা বশত তিনি দাউদকে বদদোআ দিয়েছিলেন। (১ শাময়েল ১৬:৫-১৪)। পরে নিজ বংশের সহস্রাধিক মানুষ নিয়ে দাউদের কাছে এসে ক্ষমা চাইলে দাউদ তাকে ক্ষমা করার ঘোষণা দেন। (১ শামুয়েল ১৯:১৬-২৩) কিন্তু দাউদের এ ওসিয়ত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তৎকালীন পরিস্থিতিতে জনমত নিয়ন্ত্রণের জন্যই তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর অন্তরে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছিলই। যেহেতু তিনি নিজে আল্লাহর নামে কসম করেছেন তাকে হত্যা না করার সেহেতু তিনি শলোমনকে দিয়ে তাকে হত্যার ব্যবস্থা করলেন। শলোমন সুযোগমত অজুহাত খুঁজে তাকে হত্যা করেন (১ রাজাবলি ২:৩৪-৪৬)
৬. ২. ১৩. ২. অবৈধভাবে এক হাজার স্ত্রী গ্রহণ
বাইবেলের বর্ণনায় ঈশ্বর শলোমনকে বলেন: "তোমার পিতা দাউদের মত করে যদি তুমি আমার সব নিয়ম ও হুকুম পালন কর এবং আমার পথে চল তবে আমি তোমাকে অনেক আয়ু দেব।” (১ বাদশাহনামা ৩:১৪, মো.-০৬)
এখানে ঈশ্বর দাউদের কোন বিধান পালনের কথা বলেছেন তা সুস্পষ্ট নয়। তবে আমরা দেখেছি যে,বহুবিবাহ ও বিবাহ-বহির্ভূত ব্যভিচার দাউদের বৈশিষ্ট্য ছিল। শলোমন এদিক থেকে পিতা দাউদকে অতিক্রম করেন। শলোমনের স্ত্রীদের সংখ্যা ছিল এক হাজার: "সাত শত রমণী রাজকুমারী (seven hundred wives, princesses,) তাঁহার পত্নী, ও তিন শত তাঁহার উপপত্নী (concubines) ছিল।" (১ রাজাবলি ১১:৩)
নিউ টেস্টামেন্টে একাধিক বিবাহ অবৈধ বলা হলেও ওল্ড টেস্টামেন্টে একাধিক বিবাহ বৈধ। পূর্ববর্তী নবীরা সকলেই অনেক বিবাহ করেছেন। তবে শলোমনের জন্য এক হাজার স্ত্রী গ্রহণ ঈশ্বরের দুটো বিধান অনুসারে নিষিদ্ধ ছিল:
(১) যে সকল জাতির সাথে আত্মীয়তা করতে ঈশ্বর নিষেধ করেছিলেন তিনি সে সকল জাতির নারীদেরকে বিবাহ করেন। "আর তাদের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করবে না; তুমি তার পুত্রকে তোমার কন্যা দেবে না ও তোমার পুত্রের জন্য তার কন্যা গ্রহণ করবে না।" (দ্বিতীয় বিবরণ ৭:৩)
(২) শাসকদের জন্য বহুবিবাহ নিষেধ। তিনি এক হাজার স্ত্রী গ্রহণ করেন। ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে যারা শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করবেন তাদের জন্য অনেক স্ত্রী গ্রহণ করা নিষিদ্ধ: "আর সে (রাজা) অনেক স্ত্রী গ্রহণ করবে না, পাছে তার অন্তর বিপথগামী হয়।" (দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:১৭)
শলোমনের মূর্তিপূজা
শলোমন ঈশ্বরের ধর্ম পরিত্যাগ করে শেষ জীবনে প্রতিমাপূজার ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মূর্তিপূজক অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এতে তাঁর ঈশ্বরের পুত্রত্ব ও ভাববাদিত্ব নষ্ট হয় নি।
১ বাদশাহনামা ১১:১-১৩ (মো.-১৩): বাদশাহ সোলায়মান ফেরাউনের কন্যা ছাড়া আরও বিদেশী রমণী, অর্থাৎ মোয়াবীয়া, অম্মোনীয়া ইদোমীয়া, সীদোনীয়া ও হিত্তীয়া রমণীকে মহব্বত করতেন। যে জাতিদের বিষয়ে মাবুদ বনি-ইসরাইলদের বলেছিলেন, তোমরা তাদের কাছে যেও না এবং তাদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিও না, কেননা তারা নিশ্চয়ই তোমাদের হৃদয়কে তাদের দেবতাদের পিছনে চলে বিপথগামী করবে, সোলায়মান তাদেরই প্রতি প্রেমাসক্ত হলেন। সাত শত রমণী তাঁর পত্নী ও তিন শত তাঁর উপপত্নী ছিল; তাঁর সেই স্ত্রীরা তাঁর হৃদয়কে বিপথগামী করলো। ফলে এরকম ঘটলো, সোলায়মানের বৃদ্ধ বয়সে তাঁর স্ত্রীরা তাঁর হৃদয়কে অন্য দেবতাদের পশ্চাতগামী করে বিপথগামী করলো; তাঁর পিতা দাউদের অন্তঃকরণ যেমন ছিল, তেমনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের ভক্তিতে তাঁর অন্তঃকরণ একাগ্র ছিল না। কিন্তু সোলায়মান সীদোনীয়দের দেবী অষ্টারত ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মিল্কমের অনুগামী হলেন। এভাবে সোলায়মান মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করলেন; তাঁর পিতা দাউদের মত সম্পূর্ণভাবে মাবুদের অনুগামী হলেন না।
সেই সময়ে সোলায়মান জেরুশালেমের সম্মুখস্থ পর্বতে মোয়াবের ঘৃণ্য দেবতা কমোশ ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মোলাকের জন্য উচ্চস্থলী (মো.-০৬: পূজার উঁচু স্থান) নির্মাণ করলেন। তাঁর যত বিদেশী স্ত্রী যার যার দেবতার উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত ও পশু কোরবানী করতো, তাদের সকলের জন্য তিনি তা-ই করলেন। অতএব মাবুদ সোলায়মানের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন; কেননা তাঁর অন্তঃকরণ ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের দিকে না থেকে বিপথগামী হয়েছিল, যিনি দু'বার তাকে দর্শন দিয়েছিলেন,এই বিষয়ে মাবুদ তাকে হুকুম দিয়েছিলেন, যেন তিনি অন্য দেবতাদের অনুগামী না হন। কিন্তু মাবুদ যা হুকুম দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করলেন না। অতএব মাবুদ সোলায়মানকে বললেন, তোমার তো এই ব্যবহার, তুমি আমার নিয়ম ও আমার হুকুম করা সমস্ত বিধি পালন কর নি; এই কারণ আমি অবশ্য তোমা থেকে রাজ্য চিরে নিয়ে তোমার গোলামকে দেব। তবুও তোমার পিতা দাউদের জন্য তোমার বর্তমান কালে তা করবো না, কিন্তু তোমার পুত্রের হাত থেকে তা চিরে নেব। যা হোক, সারা রাজ্য চিরে নেব না; কিন্তু আমার গোলাম দাউদের জন্য ও আমার মনোনীত জেরুশালেমের জন্য তোমার পুত্রকে এক বংশ দেব।"
পাঠক, বাইবেলীয় ঈশ্বর ও তাঁর পুত্র ইবনুল্লাহ শলোমনের বিষয় চিন্তা করুন:
(ক) শলোমন কয়েকটা মহাপাপ করেছেন: (১) নিজে মূর্তিপূজা করেছেন, (২) স্ত্রীদেরকে মূর্তিপূজায় সহযোগিতা করেছেন এবং (৩) প্রতিমাপূজার জন্য জেরুসালেমের সম্মুখস্থ পর্বতে উচ্চস্থলী বা পূজার উঁচু স্থান নির্মাণ করলেন।
এ সকল প্রতিমা-মন্দির ও কোরবানগাহ পরবর্তী কয়েকশ বছর তথায় স্থায়ী ছিল। অবশেষে শলোমনের মৃত্যুর প্রায় সাড়ে তিন শত বছর পরে এহুদা রাজ্যের রাজা যোশিয় বিন আমোন এ সকল মন্দির ও প্রতিমা বিনষ্ট করেন। (২ রাজাবলি ২৩:১-২০)
(খ) উপরের প্রতিটা অপরাধেরই শাস্তি আগুনে পুড়িয়ে বা পাথর মেরে হত্যা করা। মূর্তিপূজা, প্রতিমা স্থাপন বা প্রতিমার জন্য বেদি নির্মাণের বাইবেল নির্ধারিত শাস্তি প্রস্তারাঘাতে মৃত্যুদণ্ড। এমনকি কোনো মহা-মুজিযা প্রদর্শনকারী নবী এ সকল কর্ম করলে তাকেও এ শাস্তি প্রদান করতে হবে। এ অপরাধে গ্রাম বা জনপদ পর্যন্ত পুড়িয়ে দিতে হবে। গ্রামের সকল সম্পদ ও দ্রব্যাদি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে তাওবারও কোনো সুযোগ নেই। (যাত্রাপুস্তক ২২:২০, ৩২:২৮, দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:১-১৬, ১৭:২-৭, ১ রাজাবলি ১৮:৪০) এ সকল বিধান অনুসারে ঈশ্বরের পুত্র ও নবীর দায়িত্ব ছিল তাঁর স্ত্রীদেরকে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করা। অথচ তিনি তাঁর ঈশ্বর ও তাঁর পিতার আদেশের বিপরীতে স্ত্রীদেরকে সহায়তা করলেন।
(গ) বাইবেলের বিবরণ থেকে সুস্পষ্ট যে, শলোমন মহাপাপ ত্যাগ করেননি। তিনি যদি তাওবা করতেন তবে অবশ্যই তিনি এ সকল মন্দির ও বেদি ভেঙে ফেলতেন, যে সকল দেবতা ও প্রতিমা স্থাপন করেছিলেন সেগুলো বিনষ্ট করতেন এবং এ সকল স্ত্রীকে তিনি প্রস্তরাঘাতে বধ করতেন। তিনি কিছুই করেননি।
(ঘ) সবচেয়ে মজার বিষয় ঈশ্বরের প্রতিক্রিয়া। বাইবেলের সর্বত্র আমরা দেখি যে, সামান্য অপরাধে ঈশ্বর সঙ্গে সঙ্গে আগুনে পুড়িয়ে, বিষধর সাপ দিয়ে, মহামারি দিয়ে, মাটির নিচে পুতে বা কোনো উপকরণ ছাড়াই তাৎক্ষণিক হত্যা করে অপরাধীকে শাস্তি দেন। কিন্তু শলোমনকে ঈশ্বর কোনো শাস্তি দিলেন না। সাধারণ মানুষ এরূপ অপরাধ করলে প্রস্তরাঘাতে হত্যা। আর ঈশ্বরের দু'বার দর্শন লাভ করা নবী ও পুত্র এরূপ ভয়ঙ্কর অপরাধ করলেন, ঈশ্বর শুধু বললেন, "তার রাজ্য দুভাগ হবে"।
(ঙ) আরো মজার বিষয়, এ ভয়ঙ্কর অপরাধগুলোর এরূপ সামান্য শাস্তিও শলোমন নিজে ভোগ করবেন না; বরং তাঁর পুত্র এ শাস্তি ভোগ করবে। ঈশ্বর নিজেই বলেছেন: "পিতার অপরাধ পুত্র বহন করিবে না... দুষ্টের দুষ্টতা তাহার উপর বর্তিবে।" (যিহিষ্কেল ১৮:২০) কিন্তু ঈশ্বর নিজেই নিজের এ নীতি ভঙ্গ করে শলোমনের দুষ্টতার ভার তাঁর পুত্রের উপর অর্পণ করলেন!
(চ) ইহুদি-খ্রিষ্টান বিশ্বাস অনুসারে পবিত্র বাইবেলের কয়েকটা পুস্তকের রচয়িতা শলোমন। যে ভাববাদী নিজেই নিজের ধর্ম ত্যাগ করে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হলেন, তাঁর লেখা পুস্তক কিভাবে পবিত্র বাইবেলের মধ্যেঠাঁয় পেল তা চিন্তার বিষয়।
(ছ) ঈশ্বর তাঁর ধর্ম পরিত্যাগকারী ও মূর্তিপূজক তাঁর এ পুত্র শলোমনকেই তাঁর পরবর্তী পুত্র যীশুর পূর্বপুরুষ হিসেবে বাছাই করলেন। অন্য কারো বংশে যীশুকে না পাঠিয়ে শলোমনের বংশেই পাঠালেন।
৬. ২. ১৪. ইলীশায় ভাববাদীয় ক্রোধ ও শিশুদের গণহত্যা
বাইবেলের অন্য প্রসিদ্ধ ভাববাদী বা নবী ইলীশায় (Prophet Elisha)। কিতাবুল মোকাদ্দসের অনুবাদে তাঁর নাম আল-ইয়াসা। তিনি তাঁর মহা অলৌকিক ক্ষমতার জন্য প্রসিদ্ধ। বাইবেলের বর্ণনায়, কিছু শিশু ইলীশায় ভাববাদীকে টাক বলে ঠাট্টা করে। এ জন্য ৪২ জন শিশুকে ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়: "পরে তিনি সেই স্থান থেকে বেথেলে চললেন; আর তিনি পথ দিয়ে উপরে যাচ্ছেন, এমন সময়ে নগর থেকে কতগুলো বালক (ইংরেজি: little children: ছোট্ট শিশু) এসে তাঁকে বিদ্রূপ করে বললো, রে টাপড়া উঠে আয়, রে টাপড়া উঠে আয়। তখন তিনি পিছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাদেরকে দেখলেন এবং মাবুদের নামে তাদেরকে বদদোয়া দিলেন; আর বন থেকে দু'টা ভল্লুকী এসে তাদের মধ্যে বেয়াল্লিশ জন বালককে ছিড়ে ফেললো।" (২ রাজাবলি ২:২৩-২৪)
ছোট শিশুদের এ চপলতা কি অভিশাপযোগ্য অপরাধ। কোনো সাধারণ মানুষ কি এরূপ চপলতায় ক্রুদ্ধ হবেন? ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের হত্যা করবেন? এখানে এ বাইবেলীয় ভাববাদীর ক্রোধ, আক্রোশ ও অভিশাপ যেমন লক্ষণীয়, তেমনি বা তার চেয়েও অধিক লক্ষণীয় চপলমতি শিশুদের বিরুদ্ধে অভিশাপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ঈশ্বরের ব্যস্ততা!
উল্লেখ্য যে, ইলীশায় তাঁর মৃত্যুর পরেও একইভবে অলৌকিক কর্ম করতেন। ২ রাজাবলি ১৩:২০-২১ আমাদেরকে বলছে যে, একটা মৃতদেহকে ইলীশায় ভাববাদীর কবরে ফেলে দেওয়া হয়। সেই মৃত লাশটা কবরের মধ্যে ইলীশায়ের অস্তি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আমরা জানি না, মৃত্যুর পরে ইলীশায়ের যেরূপ ক্ষমতা ছিল জীবদ্দশায় তাঁর এরূপ ক্ষমতা ছিল কি না? কিন্তু আমরা ধরে নিতে পারি যে, তাঁর এরূপ ক্ষমতা ছিল এবং তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তাঁর শিকারদেরকে তিনি ভল্লুক দিয়ে হত্যা করতেন, এরপর তাদের পুনরুজ্জীবিত করতেন, এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় ভল্লুক ডেকে তাদের হত্যা করতেন। তিনি বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত দুল" বিষয় বার বার করতেন।
মেজর: যিশাইয়া ভাববাদীর উলঙ্গতা
বাইবেলের অন্য প্রসিদ্ধ নবী যিশাইয় বা ইশাইয়া (Isaiah)। তার নামে প্রচলিত পুস্তকে ঈশ্বর যিশাইয়কে তিন বছর উলঙ্গ থাকতে নির্দেশ দেন। (ইশাইয়া ২০:২-৪) আর ঈশ্বরের নিকট থেকে মিসরীয়দের এ 'অদ্ভুত' শাস্তি আদায় করার জন্য ঈশ্বরের প্রিয় ভাববাদীর তিন বছর উলঙ্গ হয়ে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না? তাওবা, প্রার্থনা, যজ্ঞ, কোরবানী ইত্যাদি শালীন ও ঈশ্বরের স্মরণমূলক কর্মের মাধ্যমে কি তা পাওয়া সম্ভব ছিল না?
মেজর/উইক: যিহিফেল ভাববাদীর মল ও গোবর ভক্ষণ
আরেকজন বাইবেলীয় নবী ইজিকিয়েল: 'Ezekiel'। যিহিষ্কেল নবীর পুস্তক থেকে আমরা জানতে পারি যে, ঈশ্বর তাঁকে নির্দেশ দেন দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় মানুষের মল দিয়ে খাদ্য রান্না করে ভক্ষণ করতে। পরে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের বিষ্ঠার পরিবর্তে গোবর দিয়ে অশুচি খাদ্য তৈরি করে ভক্ষণের নির্দেশ দেন। (যিহিছেল ৪:৪-১৫)
মেজর: অজ্ঞাতনামা ভাববাদীর মিথ্যাচার ও নরহত্যা
সবচেয়ে অবাক বিষয় কোনো কারণ ছাড়াই একান্তই হিংসার ভিত্তিতে একজন ভাববাদী আরেকজন ভাববাদীকে ঈশ্বরের ভাববাণীর নামে মিথ্যা বলে হত্যা করছেন (বিস্তারিত দেখুন: ১ রাজাবলী ১৩:১১-২৯)।
৩। মোশি
মোশি মাদায়ানে হিজরতের পূর্বে জনৈক মিশরীয়কে হত্যা করেন ঘটনাক্রমে।
এরপরে যখন ইশ্বর মোশিকে ফেরাউনের কাছে যাওয়ার আদেশ দেন তখন মোশি অসম্মতি জানালে ইশ্বর মোশির উপরে রাগান্বিত হোন। এই পাপের জন্য ইশ্বর মোশির থেকে যাজকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে হারোনকে দিয়ে দেন। (যাত্রা ৪)
চল্লিশ সাল মরুপ্রান্তরে ইজ্রায়েলীয়দের নিয়ে ঘোরার সময়ে মোশি অসংখ্য বর্বর শাস্তি কার্যকর করেছেন।
একাধিক বিয়ে করেন।
.
৪। হারোন
মোশি যখন পাহাড়ে ইশ্বরের সাথে কথা বলতে যান তখন ইস্রায়েলীয়দের চাপের মুখে গহনা দিয়ে স্বর্নের গোবাছুরের মুর্তি বানিয়ে দেন। এরপর হারোন একটি বেদী বানান এবং পরের দিনকে উৎসবের দিন হিসাবে ঘোষণা দেন। হারোনকে দায়ী করেন মোশি। (যাত্রাপুস্তক ৩২)
১.৫. শৌল
ইশ্বরের আদেশ অমান্য করে লোকগণনা করেন। শত্রু দলের সবাইকে হত্যা করতে আদেশ দেন ইশ্বর, এবং শৌল সেই আদেশ অমান্য করেন।
১.৬. দাউদ
বেথশেবার সাথে ব্যভিচার। বেথশেবার স্বামীকে অন্যায় ভাবে হত্যা করানো।
১.৭. শলোমন
বহু অবিশ্বাসী পৌত্তলিক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাদের জন্য মুর্তি আর মন্দির স্থাপন করেন।